নদীভাঙন কমতেই সিরাজগঞ্জের চরে পুনরায় জনপ্রিয় চিনা ধান চাষ
সিরাজগঞ্জের যমুনা তীরবর্তী চরাঞ্চলে আবারও শুরু হয়েছে চিনা ধানের চাষ। বাজারে এ ধানের ভালো দাম পাওয়া যাওয়ায় দিন দিন এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় কৃষকেরা। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে দেখা যাচ্ছে এই ধানের আবাদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুর, বেলকুচি, চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে শীত মৌসুমে নতুন চর জেগে ওঠে। এসব চরের জমিতে কৃষকেরা কাঁচামরিচ, ভুট্টা, বাদাম, গম, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ নানা ধরনের ফসল ও সবজি চাষ করে থাকেন। একসময় এসব চরাঞ্চলে চিনা ধানের চাষও বেশ জনপ্রিয় ছিল।
কিন্তু ভয়াবহ নদীভাঙনের কারণে কয়েক বছর ধরে এ ধানের চাষ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদীভাঙন কিছুটা কমে আসায় আবারও চরাঞ্চলে চিনা ধানের চাষ শুরু করেছেন কৃষকেরা।
জানা গেছে, কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলের কৃষকেরা গত দুই বছর ধরে নতুন করে এ ধান চাষ শুরু করেছেন। এছাড়াও সিরাজগঞ্জের অন্যান্য উপজেলার কিছু চরাঞ্চলেও কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে এ ধান আবাদ করছেন। তবে বিশেষ করে যমুনা বিধৌত চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলে এ ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, চর জেগে ওঠার পর জমিতে চিনা ধানের বীজ ছিটিয়ে দিলেই ধান গজাতে শুরু করে। মাঝেমধ্যে সামান্য সার প্রয়োগ করলেই হয় এবং সাধারণত কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। ফলে এ চাষে খরচ কম হলেও লাভ তুলনামূলক বেশি হয়।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৮ থেকে ৯ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বাজারে প্রতি মণ চিনা ধান ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ফলে প্রায় বিনা চাষেই চরাঞ্চলের জমি থেকে ভালো আয় করতে পারছেন কৃষকেরা। এ কারণে প্রতিবছরই নতুন নতুন কৃষক এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, চরাঞ্চলে এ ধানের চাষাবাদ নিয়ে কৃষি বিভাগের কাছে তেমন তথ্য নেই। তবে কৃষকেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে চিনা ধান চাষ করছেন বলে জানা গেছে। চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলের অনেক স্থানে এ ধানের আবাদ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ চাষ আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, একসময় যমুনার চরাঞ্চলে চিনা ধান চাষ করে অনেক কৃষক জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ ধানের লাভজনক দিক বিবেচনা করে ভবিষ্যতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও কৃষকদের সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।




Comments