Image description

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেছেন, “যখন যৌবন ছিল, মানুষের জন্য কাজ করার অফুরন্ত সময় ছিল, তখন সেই সুযোগ পাইনি। এখন চাকরির শেষ সময়ে এসে সেই সুযোগ পেয়েছি; আমি এটাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।”

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জিএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজের ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করে কমিশনার বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি পুলিশের নন-অপারেশনাল ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে মাঠ পর্যায়ে জনগণের সরাসরি সেবা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বর্তমানে দায়িত্ব পেয়ে তিনি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নতুন বাংলাদেশ ও পুলিশিং ব্যবস্থা নিয়ে ইসরাইল হাওলাদার বলেন, “এটি একটি নতুন বাংলাদেশ। এখানে প্রত্যেকের মতপ্রকাশের অধিকার থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক পুলিশিংয়ের মূল কাজই হলো মানুষের কথা শোনা এবং তাদের নিরাপত্তা দেওয়া। সমালোচনাকে আমি স্বাগত জানাই, কারণ নিজের ভুল না শুনলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকে না।”

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা কিছু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) ফোন রিসিভ না করার বিষয়ে অভিযোগ তুললে কমিশনার তা গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ভুল তথ্য উপস্থাপিত হওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ ফোন ধরতে দ্বিধা করতে পারেন, তবে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সাংবাদিকদের নিয়মিত তথ্য সরবরাহের জন্য জিএমপিতে একজন ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে একটি ‘মিডিয়া উইং’ গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “কেউ অপরাধ করলে সে যেই হোক, তাকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। আইনের চোখে সবাই সমান। যেকোনো অপরাধের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে হবে, অভিযোগ পেলে পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।”

অনুষ্ঠানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। সবশেষে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা একত্রে মধ্যাহ্নভোজ সম্পন্ন করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর