Image description

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমির খাজনা আদায়ের নিয়ম পরিবর্তনের দাবিতে মাইকিং করার অভিযোগে এক বৃদ্ধকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী হোসাইন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান টুটুল উপজেলার কোলাহাট ইউনিয়নের কয়াভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং রজনীগন্ধা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। গত বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

টুটুলের অভিযোগ, একই খতিয়ানের আওতাধীন মোট জমির ওপর খাজনা দেওয়ার বর্তমান নিয়ম পরিবর্তনের দাবিতে তিনি ভ্যানে করে মাইকিং করছিলেন। এ সময় সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক সুমন হোসেন তাকে জোরপূর্বক ইউএনও’র কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে বুকের ওপর 'পেপার ওয়েট' ছুড়ে মারেন। পরে চালক সুমনও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে তিনি দাবি করেন। অসুস্থ অবস্থায় টুটুল পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

টুটুল বলেন, “আমার নামে মাত্র ৫ কাঠা জমি থাকলেও খতিয়ানের পুরো ৯ একরের খাজনা না দিলে ভূমি অফিস টাকা নেয় না। এই অযৌক্তিক নিয়মের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির অপরাধে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।”

প্রত্যক্ষদর্শী ভ্যানচালক ফাহিম জানান, তাকেও আটকে রাখা হয়েছিল এবং প্রচারণার মাইকটি রেখে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাদেকুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, “প্রতিবাদ করলেই যদি এভাবে সরকারি দপ্তরে নিয়ে মারধর করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি। তিনি বলেন, “তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অফিসে ডাকা হয়েছিল। তিনি কার প্ররোচনায় মাইকিং করছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।” নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তিনি মারধরের কোনো সত্যতা পাননি।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর