সংক্রামক ব্যাধি হাম ও রুবেলার বিস্তার রোধে বরিশালে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই জরুরি উদ্যোগ জেলা ও নগরজুড়ে একযোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল এলাকায় একটি টিকাকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশে পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।” অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের টিকাদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, একই দিন বেলা ১১টায় বরিশাল নগর মাতৃসদন মিলনায়তনে নগর পর্যায়ের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিলকিস আক্তার জাহান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় বরিশালের কিছু এলাকাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং সন্দেহভাজন আরও একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। বিভাগের ছয় জেলায় এ পর্যন্ত ৪৮৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৮১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভাগে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৬১২ জন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিয়মিত টিকাদান, জনসচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হাম ও রুবেলা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে হাম-রুবেলা প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হচ্ছে। বরিশাল নগরীর ১৫টি স্থায়ী কেন্দ্রে এই কার্যক্রম চলছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কারিগরি সহায়তায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ইপিআই (EPI) টিমকে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments