দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল এলাকায় প্রকট আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকরা। কোথাও দীর্ঘ লাইন, আবার কোথাও দিনের অধিকাংশ সময় ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো পাম্পে তেল সরবরাহের খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই সেখানে শত শত গ্রাহক হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। এতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, গত ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই পূবাইল ও আশপাশের ১০ থেকে ১২টি পেট্রোল পাম্পে এ সংকট শুরু হয়েছে। নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। কোনো কোনো পাম্পে তেল নিতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করায় বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি এমনকি অগ্নিকাণ্ডের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, সব পাম্পে একসঙ্গে তেল সরবরাহ সম্ভব হয় না। বিভিন্ন ডিপো থেকে আলাদা সময়ে তেল আসায় এই সংকট তৈরি হচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকেরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল মজুত করায় মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
গাজীপুর মহানগর অঞ্চল-২ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া ইয়াসমিন বলেন, পাম্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিতভাবে তেল সরবরাহের বিষয়টি দেখা হচ্ছে, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা কমানো যায়।
এদিকে, স্থানীয়ভাবে সংকট থাকলেও মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন ডিজেল, ১০ হাজার ৫০০ টন অকটেন এবং ১৬ হাজার টন পেট্রোল মজুত আছে। এছাড়া অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতে গত এক মাসে অভিযানে ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments