Image description

মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। জেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষের চর এলাকায় নতুন বিসিক সংলগ্ন প্রায় ৩০০ মিটার সড়কজুড়ে পৌর শহরের বর্জ্য ফেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা।

মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান এই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে বিশাল ময়লার স্তূপ থেকে বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধে বাসের যাত্রী, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের নাক-মুখ চেপে ধরে চলাচল করতে হচ্ছে। তীব্র গন্ধে অনেক সময় যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বর্জ্যের এই স্তূপ আশপাশের বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে এক মাসের কথা বলে এখানে ময়লা ফেলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পার হলেও ময়লা সরানো হয়নি। পাশেই একটি মাদ্রাসা রয়েছে, ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে আছে। দুর্গন্ধে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।’ আরেক বাসিন্দা রনি খান অভিযোগ করে বলেন, ‘ময়লা ফেলার প্রতিবাদ করলেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। অনেকেই ভয়ে এখন আর মুখ খোলে না।’

অটোরিকশা চালক আনোয়ার জানান, এই ৩০০ মিটার রাস্তা পার হওয়াটাই সবচেয়ে কষ্টকর। অনেক সময় যাত্রীরা দুর্গন্ধে বমি করে দেন। মাদারীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তুষার আহমেদ দ্রুত এই বর্জ্য অপসারণ করে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর দাবি জানান।

এ বিষয়ে মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক জেসমিন আকতার বানু বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। বামুন্দী এলাকায় নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। কিছু আইনি জটিলতার কারণে বর্তমানে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। খুব শিগগিরই নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য অপসারণ করা হবে। তবে শহর পরিষ্কার রাখতে সবার সহযোগিতাও প্রয়োজন।’

দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে ময়লার স্তূপ জমে থাকায় জনদুর্ভোগ এখন চরমে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ওই এলাকায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও প্রকট হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর