Image description

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম অগ্রসেনানি এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি নেতা রাশেদ খানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় ঢাকা-১০ আসন ছাড়ার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী আসিফ মাহমুদের প্রতি কোনো নমনীয়তা দেখায়নি। তার দাবি, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে সরকারে থাকাকালীন সময়ের কিছু অভিযোগ সামনে এনে জামায়াত ওই আসনটি নিজেদের হাতেই রেখেছে। এমনকি ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্বয়ং জামায়াতের আমিরকে এ বিষয়ে অনুরোধ করলেও দলটির সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি। রাশেদ খান আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপিও আসিফ মাহমুদকে ঢাকা-১০ আসন ছাড়েনি, যার ফলে তাকে শেষমেশ এনসিপিতে (জাতীয় নাগরিক পার্টি) যেতে হয়েছে।

রাশেদ খানের স্ট্যাটাসে আরও উঠে এসেছে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যকার সম্ভাব্য টানাপোড়েনের কথা। সম্প্রতি এনসিপির সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই জামায়াত নেতা ভিপি সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে জোটে ফাটল ধরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাশেদ খান। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘জানিনা, এবার জোটে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় কি না এবং এনসিপি এজন্য জামায়াতকে মুনাফেক বলে কি না!’

রাশেদ খান তার স্ট্যাটাসের শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারে যাওয়ার ভুল সিদ্ধান্ত যেন আসিফ মাহমুদের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়ালো। খেলা যে চলছে কোন লেভেলে... তুমি আমাকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি হিসেবে অধ্যাদেশ পাশ করাতে ভোট দিবা, আর আমি কেন খেলবো না! হ্যাঁ, এটাই জামায়াত! পুরোপুরি খেলে দিলো।”

এই ফেসবুক পোস্টের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—নির্বাচন ও জোটের কৌশলী রাজনীতিতে এনসিপি শেষ পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের পাশে কতটুকু দাঁড়াবে কিংবা জোটে কোনো বড় পরিবর্তন আসবে কি না।

মানবকণ্ঠ/আরআই