প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। এখন সময় এসেছে শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনায় দেশের অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আমি বন্ধ কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এক মাস আগেই সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কর্মসংস্থান হারানো শ্রমিকদের দ্রুত কাজে ফেরানো যায়। এ লক্ষ্যে নিয়মিত বৈঠক চলছে এবং চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু বন্ধ কারখানা চালু করাই আমাদের লক্ষ্য নয়, দেশের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আমরা অভ্যন্তরীণ সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর পরিকল্পনা করছি। নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আমরা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে কাজ করছি, যাতে তারা নতুন নতুন শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।”
শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, “শ্রমিক ও কৃষকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও হকারদের জীবিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাস্তায় জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার জন্য হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের পুনর্বাসনের কথা আমরা ভুলিনি। হকাররাও মানুষ, তাদেরও পরিবার আছে। সে কারণে তাদের সম্মানের সাথে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে এই পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল হকারকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে।”
সমাবেশে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments