Image description

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) হাম শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় বায়োসেফটি লেভেল-৩ মানের পরীক্ষাগার রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় কিট না থাকায় এখনো সেখানে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
 
এর ফলে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকার রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। রাজধানীর বিশেষায়িত ল্যাবগুলোতে পরীক্ষা শেষে ফলাফল পেতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগছে, যা দ্রুত চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিআইটিআইডির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ইফতেখার আহমেদ জানান, অনুমতি পেলেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই চট্টগ্রামে হাম পরীক্ষা চালু করা সম্ভব। প্রতিদিন অন্তত ১শ টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরীক্ষা চালু করতে হলে ঢাকার পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউট-এর ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিসেলস-রুবেলা ল্যাবরেটরি থেকে অনুমোদন প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় দ্রুত শনাক্তকরণ জরুরি। দেরি হলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে চট্টগ্রামে প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে কয়েক ডজন রোগী ভর্তি হচ্ছে। জেলা সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত ২২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২৬২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার এনপিএমএল ও আইপিএইচ ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে নগরীর ১৫১ জন এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১১১ জন রয়েছেন। হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৮৮ জন রোগী।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক শেখ ফজলে রাব্বী জানিয়েছেন, দ্রুত অনুমতি পাওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে যোগাযোগ চলছে। অনুমোদন মিললেই স্থানীয় পর্যায়ে পরীক্ষা শুরু করা যাবে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে।