Image description

ফরিদপুরে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক অসহায় বিধবা নারীকে (৪৩) আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সুজন শেখ (৩৫) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী হারানোর পর থেকে অন্যের বাসায় কাজ করে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি। অভাবের সংসারে সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় সেই সুযোগটি নেয় প্রতিবেশী সুজন শেখ। সে সরকারি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকালে কার্ড করানোর নাম করে ওই নারীকে রিকশায় করে শহরের গোয়ালচামট এলাকায় নিয়ে যায় সুজন। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলকে ‘সরকারি অফিস’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে যায় এবং দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ঘটনার পর ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন। চারদিন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে যৌন সহিংসতার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) তিনি কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী নারী বলেন, "আমি তো অফিস চিনি না। অভাবের সংসারে সরকারি সাহায্য পাবো ভেবে ওর সাথে গিয়েছিলাম। কিন্তু ও আমার সর্বনাশ করে দিল। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।"

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত সুজন শেখকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট হোটেলটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে অভিযুক্ত সুজন শেখ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই