Image description

কুমিল্লার লাকসামে একদিনে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে ১০ শিশু ও এক বৃদ্ধাসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো উপজেলায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আহতদের মধ্যে কয়েকজন সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও, গুরুতর আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আহতরা হলেন—পৌর শহরের বাগিচাপাড়ার সিজরাতুল মোনতাহা (৬), হামিরাবাগের আনিকা (৭), ছনগাঁও গ্রামের ওমরা (৭), আয়ন (৬), নুসরাত (৫), কান্দিরপাড়ের রাইসা (১০), আয়া (১৬ মাস), পশ্চিমগাঁওয়ের মিম (১২), আরিফ (২), মমিনা খাতুন (৭০) এবং সাতবাড়ীয়া গ্রামের জান্নাতুল ফেরদৌস (৬)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কান্দিরপাড়, হামিরাবাগ, মুদাফরগঞ্জ, শ্রীয়াং, নরপাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় দলবদ্ধ পাগলা কুকুর বেপরোয়া আচরণ করছে। সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড় দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মুখছেদ আলী জানান, বিকেলে তার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় একটি কুকুর তার মাজায় কামড় দিয়ে মাংস তুলে নেয়। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তাঘাটে ১০-১৫টি কুকুর দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। পথচারী, বিশেষ করে শিশু ও নারীরা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। অনেক কুকুর রোগাক্রান্ত হওয়ায় জলাতঙ্কের ঝুঁকিও বাড়ছে।

চিকিৎসক মোজ্জাকের হোসেন জানান, কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি কুকুরের বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুকুর নিধন কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর