অবহেলিত শৈশব আর টানাটানির সংসার পেরিয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শেফালী বেগম (৪৬) আজ এক সফল নারী উদ্যোক্তা। তিনি কেবল নিজের ভাগ্যই বদলাননি, তার তৈরি নকশিকাঁথা সেলাই করে স্বাবলম্বী হয়েছেন স্থানীয় প্রায় ২৫০ জন নারী। তাদের হাতের কাজের সুনিপুণ ছোঁয়া এখন পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকা ও রংপুরের বড় বড় বাজারে।
শৈশবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ আর সৎ মায়ের সংসারে অবহেলায় বেড়ে ওঠা শেফালীর বিয়ে হয় মাত্র ১৩ বছর বয়সে। ২০০৯ সালে স্বামী অবসরে গেলে তিন সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। তখন থেকেই শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। প্রথমে নিজ বাড়িতে কাঁথা সেলাই করে শহরে বিক্রি করতেন, যা থেকে আয় হতো সামান্য ৪-৫ হাজার টাকা। তবে ২০১৮ সালে বিআরডিবি থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ ও ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বড় পরিসরে কাজ শুরু করেন তিনি।
বর্তমানে শেফালীর অধীনে কাজ করছেন ২৫০ জন দরিদ্র নারী। প্রতিটি নকশিকাঁথা তৈরিতে মজুরিসহ খরচ হয় ২ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং নকশা ভেদে তা আড়াই থেকে সাড়ে আট হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এই কাজের মাধ্যমে গ্রামের গৃহিণী থেকে শুরু করে স্কুলছাত্রীরাও মাসে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করছেন।
শেফালীর অধীনে কর্মরত বিউটি খাতুন ও পিংকি রানী জানান, তাদের স্বামীদের উপার্জনে সংসার চলত না, কিন্তু এখন তারা নিজেরাই সংসারে বড় জোগান দিচ্ছেন। উদয়সাগর গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্রী মিতু জানায়, সেলাইয়ের আয় দিয়ে সে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছে।
সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’র পুরস্কার পেয়েছেন শেফালী বেগম। বর্তমানে তার বড় ছেলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং ছোট ছেলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগে পড়াশোনা করছেন।
নিজের এই জয়যাত্রার বিষয়ে শেফালী বেগম বলেন, "নারীদের অধিকার নিয়ে শুধু রাস্তায় চিৎকার না করে তাদের কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া জরুরি। একজন কর্মঠ নারী সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ। আমি চেয়েছি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্য নারীদের পাশে দাঁড়াতে।"
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার এই অদম্য নারীর গল্প এখন স্থানীয় অনেক নারীর কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments