Image description

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, একটি শহরের প্রকৃত নিরাপত্তা কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় না; বরং তখনই একটি শহর সত্যিকারের নিরাপদ হয়ে ওঠে, যখন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিক নির্ভয়ে ও মর্যাদার সাথে বসবাস করতে পারেন। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যেন সমান অধিকার ও নিরাপত্তা অনুভব করেন—এমন একটি ‘নিরাপদ নগর’ গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক কাউন্সিল (আইসিসিআর)-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, আইসিসিআর কেবল একটি কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সংস্কৃতির মাধ্যমে সেতুবন্ধন তৈরির এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন ও পেশাগত প্রশিক্ষণের একটি বড় অংশ তিনি ভারতে অতিবাহিত করেছেন। সেখানে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মাঝে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ে একতাবদ্ধ থাকার বিষয়টি তাকে মুগ্ধ করেছে এবং তার সহনশীলতা ও সহাবস্থানের মূল্যবোধকে দৃঢ় করেছে।

তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য এমন একটি চট্টগ্রাম গড়ে তোলা, যেখানে নিরাপত্তা মানে কেবল সড়ক বা আলোকসজ্জা নয়; বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক পরিবেশ, যেখানে ভিন্নমত ও ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবেন। আইসিসিআর-এর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ফলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন বলেন, বর্তমান বিশ্বে সাংস্কৃতিক কূটনীতির গুরুত্ব অপরিসীম। ভারত ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সহযোগিতা দুই দেশের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে। যৌথ সাংস্কৃতিক উৎসব ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীসহ অনুষ্ঠানে আইসিসিআর স্কলার এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় দুই দেশের সীমান্তকে শান্তি ও সমৃদ্ধির করিডরে পরিণত করতে সহায়ক হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর