Image description

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং আদালতের দুই বছরের সাজা থেকে বাঁচতে দীর্ঘ ৫ বছর আত্মগোপনে থাকা কলেজ শিক্ষক আবু হেনা মোস্তফা জামানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লালমনিরহাট আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার আবু হেনা মোস্তফা জামান লালমনিরহাট শহরের থানাপাড়া এলাকার মৃত মনসুর আলীর ছেলে। তিনি আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সমাজকর্ম বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু হেনা মোস্তফা জামান শরিফুল ইসলাম নামে তার এক প্রাক্তন ছাত্রের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে ১০ লাখ টাকা নেন। প্রমান হিসেবে তিনি নিজের ব্যাংক হিসাবের চেক ও স্ট্যাম্প দিলেও শেষ পর্যন্ত চাকরি দিতে ব্যর্থ হন এবং টাকাও ফেরত দেননি। টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শরিফুল এবং এক পর্যায়ে দুশ্চিন্তায় তিনি মারা যান।

শুধু শরিফুল নন, আরও অনেকের কাছ থেকে একই কায়দায় টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে আদালতে মোট ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। যার মধ্যে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই আদালত ৪টি মামলায় তাকে প্রায় দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, ২০১৯ সাল থেকে কলেজে অনুপস্থিত থাকলেও এতদিন তিনি কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। সম্প্রতি সাধারণ শিক্ষকদের প্রতিবাদের মুখে কয়েক মাস আগে তার বেতন বন্ধ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সজিব বলেন, “আবু হেনা মোস্তফা জামানের বিরুদ্ধে মোট ৬টি সিআর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি মামলায় তার বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে এবং সবগুলোতে ওয়ারেন্ট ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আজ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর