Image description

সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা, বদলেছে সাজগোজের ধরনও। এক সময় গ্রাম-বাংলার হাটবাজারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল খোলা আকাশের নিচে বসে চুল-দাড়ি কাটার দৃশ্য। আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) সেলুনের চাকচিক্যে সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন হারিয়ে যেতে বসলেও হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বুল্লা বাজারে এখনো দেখা মেলে বাঙালির এই প্রাচীন ক্ষৌরশৈলীর।

এক সময় গ্রামীণ জনপদের হাটগুলোতে নাপিতদের (শীল) ছিল ব্যাপক ব্যস্ততা। একটি ছোট কাঠের চৌকি, সামনে একটি পুরনো আয়না আর আদি আমলের কাঁচি-ক্ষুর নিয়ে তারা বসতেন। বিশেষ করে বড়দের হাত ধরে হাটে গিয়ে লাইন দিয়ে চুল কাটানো ছিল তখনকার ছোট ছেলেমেয়েদের কাছে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। সিরিয়াল পাওয়ার জন্য চলত দীর্ঘ অপেক্ষা। নাপিতদের নিপুণ হাতের সেই ছোঁয়া আর সাদামাটা পরিবেশের মধ্যে যে আন্তরিকতা ছিল, তা আজ আধুনিক সেলুনের ভিড়ে অনেকটাই ম্লান।

আগে চুল কাটার খরচ ছিল সামান্য, যা ছিল সাধারণ মানুষের সাধ্যের নাগালে। বর্তমানে ডিজিটাল সরঞ্জাম আর বিলাসবহুল পরিবেশের কারণে খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি কমেছে পুরনো সেই সামাজিক মেলবন্ধন। আধুনিক সেলুনগুলোতে এসি চলে, গান বাজে, কিন্তু আগের মতো সেই প্রাণবন্ত গল্পের আসর আর জমে না।

সরেজমিনে বুল্লা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের এক কোণে এখনো দুই-একজন প্রবীণ নাপিত সেই পুরনো কায়দায় সেবা দিচ্ছেন। খোলা জায়গায় রোদে বসে বা গাছের ছায়ায় তাদের কাজ করতে দেখলে পথচারীরা ক্ষণিকের জন্য থমকে দাঁড়ান। এই দৃশ্যটি প্রবীণদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবের সেই সোনালী দিনগুলোতে।

স্থানীয়দের মতে, গ্রাম-বাংলার এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঐতিহ্যগুলোই আমাদের শিকড়কে বাঁচিয়ে রেখেছে। বুল্লা বাজারের এই হাতেগোনা কয়েকজন নাপিত যেন সেই প্রাচীন সংস্কৃতির শেষ প্রতিনিধি। আধুনিকতাকে বরণ করে নিলেও গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই চিরচেনা দৃশ্যগুলো কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া সত্যিই বেদনার বলে মনে করেন সচেতন মহল।

মানবকণ্ঠ/ডিআর