Image description

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনীপাঠ বাজারে গরুর গোশত বিক্রিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতা স্থানীয় আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে একটি মহলের অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর অনলাইন প্রচারণায় এলাকায় নতুন করে উত্তজনা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সজাগ রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও সুধী সমাজ।

সরেজমিনে জানা গেছে, ডাকনীপাঠ বাজারটি একটি মন্দির সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান। বাজারের আশপাশে অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস হওয়ায় দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে সেখানে গরুর গোশত বিক্রির প্রচলন ছিল না। মূলত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার স্বার্থেই স্থানীয় মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায় এই রীতি অনুসরণ করে আসছিল। তবে সম্প্রতি এক ব্যবসায়ী মন্দির সংলগ্ন দোকানে গোশত বিক্রি শুরু করলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

স্থানীয়রা জানান, ডাকনীপাঠ বাজারের খুব কাছেই বটতলা, ভিতরবন্দ ও ব্যাপারীহাট বাজারে নিয়মিত গরুর গোশত পাওয়া যায়। ফলে এই বাজারে গোশত বিক্রি না হলেও সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণে কোনো সমস্যা হয় না।

বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান করা হয়। গত মঙ্গলবার গোশত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মার্কেটের মালিক আজিজুল হক থানায় উপস্থিত হয়ে জানান, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি রক্ষায় তারা ওই স্থানে আর গোশত বিক্রি করবেন না।

নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, "এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। স্থানীয়রা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এটি সমাধান করেছেন। আমরা চাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকুক। কোনো কুচক্রী মহল যেন পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।"

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, "থানায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কেট মালিক নিজেই এলাকার শান্তি ও ঐতিহ্যের কথা বিবেচনা করে গোশত বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখানে পুলিশ বা রাজনৈতিক কোনো চাপ ছিল না।"

ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিউল আলম শফি জানান, আলোচনার মাধ্যমে সব মিটে গেলেও বর্তমানে একটি মহল অনলাইনে ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি জনগণকে এসব অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।

মানবকণ্ঠ/ডিআর