মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নিয়ে শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতিতে হট্টগোল ও উত্তেজনা
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম, প্রার্থী হতে বাধা প্রদান ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কিছু সদস্য ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী, রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র কেনা ও জমার সময় নির্ধারিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সকাল থেকেই সমিতির সম্মেলন কক্ষের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।
সভাপতি পদপ্রার্থী এনসিপির আইনজীবী মোসলেম খান অভিযোগ করেন, "মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে আমাকে প্রথমে বাধা দেওয়া হয়। পরে সংবাদকর্মীদের নিয়ে ভেতরে ঢুকলে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। আইনজীবীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা চলছে।"
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ মুন্সি গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, "সহকারী নির্বাচন কমিশনার নিজেই আমার ওপর হামলা চালিয়েছেন। যেখানে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিচার চাইবো, তারাই যদি হামলাকারী হয় তবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের আস্থার জায়গা কোথায় থাকে?"
স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নব আক্তার জানান, বহিরাগতদের পাহাড়ায় তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে দেওয়া হয়নি, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মৃধা নজরুল কবির বলেন, "কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। আইনগতভাবে অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদে অন্য প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।"
সহকারী নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার মনির নিজের বিরুদ্ধে ওঠা হামলার অভিযোগ নাকচ করে বলেন, "আমরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছি, কাউকে মারধরের প্রশ্নই ওঠে না।" প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেনও দাবি করেন, পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ছিল।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা পুলিশের নজরে আসেনি।
এদিকে, বিবদমান দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments