Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পুলিশের পর এবার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল মেসার্স মাস্টার অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিবুল আলমের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সরকারি নিয়মের বাইরে অবৈধভাবে তেল সরবরাহ করতে রাজি না হওয়ায় একটি পক্ষ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার ‘ষোল মাইল বাজার’ এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা মো. জিয়াউর রহমান ভুট্টোর নেতৃত্বে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় রাজিবুল আলম বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় মামলা করেছেন, যেখানে ভুট্টোকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার পর থেকে তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এর আগে গত ১৪ মার্চ রায়গঞ্জ থানায় কর্মরত এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক এক নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এ ছাড়া ২ এপ্রিল একই ফিলিং স্টেশনে আরেক কৃষি কর্মকর্তা মো. এনায়েত আলীর সঙ্গেও অসদাচরণের ঘটনা ঘটে।

হামলার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ‘ট্যাগ অফিসার’ হিসেবে কোনো দায়িত্ব পালন করব না।”

এদিকে, অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান ভুট্টো সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, “সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁরা দ্রুত কর্মস্থলের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর