Image description

খুলনার দাকোপ উপজেলার উপকূলীয় পশুর নদীর ভাঙনে সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া শত শত পরিবারের এখন একমাত্র ঠিকানা নদীর চর। উপজেলার বাণীশান্তা বাজার সংলগ্ন এলাকায় বাঁশের খুঁটি, পলিথিন আর গোলপাতার ঝুপড়ি ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন এই ছিন্নমূল মানুষেরা। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর প্রতিদিনের জোয়ার-ভাটার পানির সঙ্গে লড়াই করেই কাটছে তাদের প্রতিটি দিন।

সরেজমিনে বাণীশান্তা বাজার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর চরে সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘর। কোনোটি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঘেরা, কোনোটির ছাদ কেবল জীর্ণ পলিথিনে ঢাকা। নদীর জোয়ারের পানি বাড়লে এসব ঘরের নিচে হাঁটু পানি জমে যায়। অনেক সময় রান্নাঘর ভেসে যায়, ভিজে যায় পরনের কাপড় ও বিছানা। তবুও মাথা গোঁজার অন্য কোনো ঠাঁই না থাকায় এই ‘মরণফাঁদেই’ পড়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। এই বস্তিগুলোতে নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট।

এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বসবাসকারী হাসিনা বেগম (৩৫) আক্ষেপ করে বলেন, “আগে সব ছিল, নদী সব গিলে খেয়েছে। এখন এই চরের ওপর বাঁশ গেড়ে পরিবার নিয়ে থাকি। রাতে জোয়ারের পানি বাড়লে ভয়ে ঘুমাতে পারি না, মনে হয় এই বুঝি সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল।”

স্বামী পরিত্যক্তা জামেলা বেগম (৪৫) জানান, ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। জলোচ্ছ্বাসের সংকেত দিলে সাইক্লোন শেল্টারে ছোটেন তারা, কিন্তু ফিরে এসে দেখেন ঘরের চালা উড়ে গেছে বা আসবাবপত্র কাদায় মাখামাখি হয়ে আছে। গত ২০ বছর ধরে এই চরেই বসবাস করছেন মুজিবুর ফরাজি (৫২)। তিনি বলেন, “প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই বেঁচে আছি। ঘর ভিজে যায়, ভেঙে যায়, আবার টেনেটুনে মেরামত করে মাথা গুজি।”

এ বিষয়ে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, “নদীর চরে বসবাসকারী এই ভূমিহীন ও ছিন্নমূল পরিবারগুলোর মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বর্তমানে পুনর্বাসনের বড় কোনো প্রকল্প হাতে না থাকলেও, ভবিষ্যতে সরকারিভাবে কোনো প্রকল্প বরাদ্দ আসলে এই পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

পশুর নদীর উত্তাল ঢেউ আর লোনা বাতাসের মাঝে বাঁশের এই নড়বড়ে ঝুপড়িগুলোই এখন দাকোপের এই ছিন্নমূল মানুষগুলোর শেষ সম্বল। প্রশাসনের দ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়নই পারে এই অদম্য মানুষদের একটি নিরাপদ ও নিশ্চিত ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর