Image description

শরীয়তপুরে সরকারি চাল পরিবহনকে কেন্দ্র করে চরম অসংগতি, গাফিলতি ও রহস্যজনক প্রশাসনিক তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে বের হওয়া বিপুল পরিমাণ চাল স্থানীয়দের হাতে একাধিকবার আটক হলেও দিনের বেলায় প্রশাসনের নীরবতা এবং রাতের আঁধারে তা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুরো ব্যবস্থাপনা ঘিরে গভীর সন্দেহ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে প্রায় ৪০০ বস্তা সরকারি সিলযুক্ত চাল একটি ট্রাকে করে কোটাপাড়া এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাকটি পালং মডেল থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা সেটি থামান। এসময় ট্রাকের চালক ও হেলপার কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে পালিয়ে গেলে ঘটনাটি রহস্যজনক মোড় নেয়।

খবর পেয়ে খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে দাবি করেন, চালগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় রুদ্রকর ইউনিয়নের ‘মানিক মাহমুদ’ নামের এক ডিলারের বরাদ্দকৃত। তবে উপস্থিত ওই ডিলার নিজেই চালগুলো তার নয় বলে সরাসরি অস্বীকার করেন। এতে চালানের বৈধতা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই প্রশাসনকে জানানো হলেও দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি। পরে পুলিশ ট্রাকটি থানায় নিয়ে গেলেও একই চাল পুনরায় ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চৌরঙ্গী এলাকায় আবারও চালবোঝাই ট্রাকটি স্থানীয়রা আটক করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে গভীর রাতে নানা কৌশলে চালগুলো পুনরায় গুদামে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির জানান, "চালগুলো জব্দ করে পুনরায় গুদামে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় এবং প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর