Image description

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যাকাণ্ডের চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকে হুকুমের আসামি করে মামলা করা হলেও আসামিরা এখনো অধরা। পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে (৩৮)। মামলায় নামীয় ৪ জনসহ আরও ১৮০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, স্থানীয় রাজীব মিস্ত্রী ও মো. শিহাব।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে ফিলিপনগরে নিজ বাড়ির দরবার শরিফে অবস্থানকালে পীর আবদুর রহমানের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। ১ নম্বর আসামি খাজা আহমেদের নির্দেশে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দরবারে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পীর আবদুর রহমানকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হামলাকারীরা দরবার শরিফ থেকে ৫ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দৌলতপুর থানার পরিদর্শক শেখ মো. আলী মর্তুজা জানান, “এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই, তবে তাদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। আশা করছি দ্রুতই সাফল্য মিলবে।”

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে জামায়াতে ইসলামী। দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির ও সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ নয়, বরং স্থানীয়ভাবে আকস্মিক ঘটেছে। রাজনৈতিক ইন্ধনে জামায়াতকে এই ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে দাবি করে তারা প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

প্রকাশ্যে দিনের আলোতে এমন হত্যাকাণ্ডের চার দিন পরও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই