Image description

অভাব, দুঃখ আর অনিশ্চয়তার কঠিন বাস্তবতাকেও হার মানিয়েছে এক স্বামীর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ। স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করে শরীয়তপুরের জসিম উদ্দিন দেখিয়েছেন আত্মত্যাগের এক বিরল দৃষ্টান্ত।

জানা গেছে, গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বসুকাঠি গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মিনারা বেগমের দাম্পত্য জীবন প্রায় ১৯ বছরের। জীবিকার তাগিদে তারা ঢাকায় বসবাস করতেন। তাদের সংসারে রয়েছে একমাত্র ছেলে সন্তান।

সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। তবে প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মিনারা বেগম। প্রথমে সাধারণ সমস্যা মনে হলেও পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, তিনি গুরুতর কিডনি রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকরা জানান, তার দুটি কিডনিই অকার্যকর হয়ে গেছে।

এরপর থেকেই শুরু হয় চিকিৎসার দীর্ঘ লড়াই। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হলেও আর্থিক সংকট দিন দিন প্রকট হতে থাকে। একদিকে ব্যয়বহুল চিকিৎসা, অন্যদিকে সংসারের খরচ—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবারটি।

কিডনি প্রতিস্থাপনই ছিল একমাত্র সমাধান। কিন্তু উপযুক্ত ডোনার না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মিনারার মা কিডনি দিতে রাজি হলেও শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসকরা তাকে অনুপযুক্ত ঘোষণা করেন।

এমন কঠিন সময়ে স্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন স্বামী জসিম উদ্দিন। কোনো দ্বিধা ছাড়াই নিজের একটি কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ৫ মার্চ ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

বর্তমানে মিনারা বেগম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বামী-সন্তানসহ ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি।

মিনারা বেগম বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি আমার স্বামী এমন সিদ্ধান্ত নেবে। আমি তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি। কিন্তু সে আমার জীবন বাঁচানোর জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া—আমরা এখন ভালো আছি।”

স্বামী জসিম উদ্দিন বলেন, “এটা আমার কর্তব্য। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি। স্ত্রীকে নতুন জীবন দিতে পেরে আমি আনন্দিত।”
এই ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অনেকেই এটিকে ভালোবাসা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সময়ের স্বার্থপরতার ভিড়ে এমন ঘটনা সত্যিই বিরল, যা সমাজের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।