পায়ে পচন, অর্থের অভাবে নিভে যাচ্ছে কলমযোদ্ধা ফসিয়ারের জীবনপ্রদীপ
একসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে যার কলম গর্জে উঠত, আজ সেই কলমযোদ্ধা নিজেই স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন মরণব্যাধি গ্যাংগ্রিনের যন্ত্রণায়। খুলনার পাইকগাছার পরিচিত মুখ, প্রবীণ সাংবাদিক ফসিয়ার রহমান এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। অর্থের অভাবে থমকে গেছে তার চিকিৎসা, আর এর সাথেই নিভে যেতে বসেছে এক সাহসী সাংবাদিকের জীবনপ্রদীপ।
ফসিয়ার রহমান বর্তমানে খুলনার আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পায়ে মরণব্যাধি গ্যাংগ্রিন বাসা বেঁধেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, অন্যথায় তার জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।
পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফসিয়ার রহমান দীর্ঘকাল মফস্বল সাংবাদিকতার মাধ্যমে অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেছেন। অথচ আজ তার নিজের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই পরিবারের। উন্নত চিকিৎসার আশায় নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয় এতই বিপুল ছিল যে, প্রয়োজনীয় অপারেশন ও পরবর্তী ধাপগুলো শেষ না করেই মাঝপথে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ফসিয়ার রহমান। মাঝেমধ্যে জ্ঞান ফিরলে অস্ফুটে জানতে চান, “আমি কি আর কোনোদিন লিখতে পারব?” এই প্রশ্ন শুধু তার নয়, যেন বিবেকবান সমাজের কাছেও। সাংবাদিক ফসিয়ার রহমান কেবল একজন সংবাদকর্মী নন, তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার অসুস্থতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার ও সন্তানরা।
মফস্বল সাংবাদিকতার বন্ধুর পথে লড়াই করা এই মানুষটি আজ বড্ড একা। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহায়তার জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টাই পারে এই সাহসী কলমযোদ্ধাকে আবারও সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে।
সাংবাদিক ফসিয়ার রহমানের চিকিৎসার জন্য সরাসরি যোগাযোগ বা বিকাশ (পার্সোনাল) করা যাবে এই নম্বরে: ০১৯১৪-১৮২৭৪৩
আপনার সামান্যতম সহানুভূতি হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি জীবন, একটি পরিবার এবং একজন নির্ভীক কলমযোদ্ধাকে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments