জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা আসার পর থেকেই চট্টগ্রামে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানের ভাড়ায় চরম নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের আগেই পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। এতে করে সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শনিবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়, যা রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ার পরপরই বন্দরনগরীর বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া একলাফে অনেক বেড়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দাবি করা হচ্ছে। সিএনজিচালিত যানবাহনের মালিকরাও সুযোগ বুঝে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন, যদিও গ্যাসের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সরকারি চার্ট অনুযায়ী বহদ্দারহাট থেকে শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত ভাড়া ২২ টাকা হলেও আদায় করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। পটিয়া রুটে ৫৯ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং কেরানীহাট পর্যন্ত ১১২ টাকার ভাড়া একলাফে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় ঠেকেছে। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে চালক ও সহকারীদের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
একই চিত্র পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও। ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রামের চাক্তাই এলাকার চাল ব্যবসায়ী কামরুল হাসান জানান, চট্টগ্রাম থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত যে ট্রাক ভাড়া আগে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা ছিল, তা এখন ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। একইভাবে কক্সবাজার ও টেকনাফ রুটেও ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। পরিবহন খরচের এই বিশাল বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে পড়তে শুরু করেছে।
বিআরটিএ ও জেলা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি এখন পর্যন্ত নতুন ভাড়ার কোনো নির্দেশনা না দিলেও মাঠপর্যায়ে মালিক-শ্রমিকদের এই বেপরোয়া আচরণে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, দ্রুত সরকারি নজরদারি বাড়িয়ে এই কৃত্রিম ভাড়া বৃদ্ধি রোধ করা হোক।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments