প্রশাসনের হস্তক্ষেপে লোহাগড়ায় সেই ২৫ জেলে পরিবারের রাস্তা অবমুক্ত
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা গ্রামের মালোপাড়ায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের বিরোধের অবশেষে শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। জেলা প্রশাসনের টানা ৫ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার আলোচনার পর বিবাদমান পক্ষগুলো চলাচলের রাস্তা খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর ফলে অবমুক্ত হচ্ছে অন্তত ২৫টি সংখ্যালঘু জেলে পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সমঝোতা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর নির্দেশনা এবং জেলা প্রশাসকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই সমঝোতা সভার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বির্তকিত স্থানে নির্মিত সীমানা প্রাচীর অপসারণ এবং জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য নতুন রাস্তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তের পর বুধবার সকাল থেকেই প্রাচীর অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেয়াল সরিয়ে রাস্তাটি সাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস বলেন, “উভয় পক্ষের আন্তরিকতায় একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান সম্ভব হয়েছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে।”
রাস্তা ফিরে পেয়ে মালোপাড়ার বাসিন্দা সুশান্ত বিশ্বাস আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “আমাদের চলাচলের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা গত কয়েকদিন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছিলাম। প্রশাসনের এই হস্তক্ষেপে আমরা অত্যন্ত খুশি এবং কৃতজ্ঞ।”
সমঝোতা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কামরুজ্জামান, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুম্মিতা সাহাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, লক্ষীপাশা মৌজার একটি জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মালোপাড়ার বাসিন্দারা যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল ওই জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হলে সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments