ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা রক্ষায় সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পটুয়াখালীর বিভিন্ন বাজারে তা মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এতে যেমন জাটকা নিধন বাড়ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন ও বিচরণ নিশ্চিত করতে ১ মার্চ ২০২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দুই মাস দেশের নির্দিষ্ট ৬টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদীসহ সংলগ্ন নদ-নদীগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। এছাড়া জাটকা রক্ষায় নভেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত টানা ৮ মাস ২৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট ইলিশ ধরা ও বিক্রির ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পটুয়াখালীর বিভিন্ন হাট-বাজারে গোপনে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় ইলিশের দাম অনেক বেশি। অন্যদিকে সচেতন মহল বলছে, এভাবে ইলিশ কেনাবেচা চলতে থাকলে জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি ভেস্তে যাবে এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন সংকটে পড়বে।
আইন অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ২ বছরের কারাদণ্ড, ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবুও এক শ্রেণির অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় আইন অমান্য করে ইলিশ নিধন ও বাজারজাতকরণ চালিয়ে যাচ্ছে।
মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং যারা আইন অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাও দেওয়া হচ্ছে। তবে ইলিশের চড়া দাম থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই এই অবৈধ লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছে। ইলিশের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে জনগণের সচেতনতা ও প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments