জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা
শিবগঞ্জে ভোগান্তি লাঘবে নিজেরাই রাস্তা সংস্কারে নেমেছেন স্থানীয়রা
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের রহবল দক্ষিণপাড়া গ্রামে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে নিজেরাই রাস্তা সংস্কারে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার না পেয়ে শেষে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি ফেলে চলাচলের পথ সুগম করার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রহবল দক্ষিণপাড়া গ্রামের খয়বার আলীর বাড়ি থেকে আয়েজ উদ্দিন কাজীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৮০০ ফুট কাঁচা সড়কটি সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশন হয় না, ফলে দীর্ঘ সময় রাস্তাটি কর্দমাক্ত ও নিমজ্জিত অবস্থায় থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার কথা স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের জানানো হলেও তারা শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন, কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। শেষে নিরুপায় হয়ে গ্রামবাসী নিজেরাই চাঁদা তুলে ও নিজেদের পরিশ্রমে রাস্তার নিমজ্জিত অংশে মাটি ফেলে সংস্কার শুরু করেন।
দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, "সামান্য বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা তো দূরের কথা, কোনো যানবাহনও চলতে পারে না। বহুবার জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছি। তারা এসে দেখে যান, কিন্তু কাজ আর হয় না। তাই তিতিবিরক্ত হয়ে আমরা নিজেরাই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার কাজ শুরু করেছি।"
আরেক ভুক্তভোগী আনারুল ইসলাম বলেন, "বর্ষা মৌসুম এলে আমাদের কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কাদা আর পানির কারণে অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনেও কোনো রিকশা বা ভ্যান গ্রামে ঢুকতে চায় না। স্কুলগামী বাচ্চাদের কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। আমরা আর কতদিন এভাবে চলব?"
এ বিষয়ে দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "রহবল দক্ষিণপাড়া গ্রামের রাস্তার এই চরম ভোগান্তির বিষয়টি আমার পুরোপুরি জানা ছিল না। এলাকাবাসীর কষ্টের কথা বিবেচনা করে আমি দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করব যেন একটি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তাটির সংস্কার করা হয়। এছাড়া গ্রামবাসীর এই মহতী উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments