Image description

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আম দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে সহপাঠীদের সামনে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সজীব (২৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গ্রাম্য সালিশ চলাকালে পুলিশ উপস্থিত হলে সালিশকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বড়াবিল শিমুলতলা গ্রামে। অভিযুক্ত সজীব ওই গ্রামের বাসিন্দা ও মশিুপুর ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল হাইয়ের ছেলে।

মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে অভিযুক্ত সজীব আম দেওয়ার কথা বলে চতুর্থ শ্রেণির তিন ছাত্রীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সে সময় সজীবের স্ত্রী বা পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে সজীব কৌশলে শিশুদের একটি ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর তিন শিশুর হাত-পা বেঁধে তাদের ওপর অমানবিক যৌন নিপীড়ন চালায়। একপর্যায়ে অন্য দুই শিশুকে বিছানার পাশে উল্টো দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে রেখে এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সে।

ধর্ষণের পর সজীব শিশুদের হাতে ৩০০ টাকা গুঁজে দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না বলতে হুমকি দেয়। তবে ভয় পেয়ে শিশুরা টাকা না নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রবিবার একটি গোপন সালিশের আয়োজন করেন। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক ও রফিক সেখানে উপস্থিত হলে সালিশকারীরা দ্রুত সটকে পড়েন। পরে পুলিশ ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারকে থানায় নিয়ে আসে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সজীবের বাবা হাফেজ আব্দুল হাই দাবি করেন, “আমার ছেলে ঢাকায় পড়াশোনা করার কারণে বাড়িতেই থাকে না। একটি পক্ষ আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিল, তা না দেওয়ায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে।”

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ভিকটিমের মা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সজীবকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর