দৃশ্যমান উন্নয়নে বদলে বদলে যাচ্ছে গোয়াইনঘাটের সীমান্তবর্তী জনপদ ও পর্যটন এলাকা
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) শতকোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে দ্রুত বদলে যাচ্ছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী জনপদ।উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আরসিসি ঢালাই, কার্পেটিং, কালভার্ট, ব্রীজ নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে সীমান্তবর্তী জনপদের ও বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকার মানুষের জীবনমানকে ইতিমধ্যে আরও উন্নত করছে।
সিলেটের বৃহত্তম ও পর্যটন ক্ষেত গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী বিছনাকান্দি ইউনিয়ন দিয়ে উপজেলা সদর ও সিলেট শহর সহ সীমান্ত এলাকা দিয়ে পার্শ্ববর্তী কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার সাথে সড়কে ছিল চলাচলের অযোগ্য। কাদা, খাল, নদী, নালায় খেয়া দিয়ে কষ্ট করে চলাচল করতে হতো। প্রতিদিন সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পেশার লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াতে পড়তেন ভোগান্তিতে।
গোয়াইনঘাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ, ব্রীজ,কালভার্ট নির্মাণ, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে আরসিসি ঢালাই কাজসহ কয়েকটি প্রকল্পে ১০২ কোটি ৩৯ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন মূলক কাজের উদ্যেগ নেয় এলজিইডি। এর মধ্যে কনস্ট্রাকশন অব ইমপোর্টেন্ট ব্রীজ অন রুরাল রোড প্রজেক্টের আওতায় উপজেলার সীমান্তবর্তী জনপদ ও বিছনাকান্দি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে উওর সিলেটের সবচেয়ে ব্যয়বহুল লুনী নদী(আনফরের ভাঙ্গা)ওপর ২৮৮ দশমিক ৩০ মিটার লম্বা(পিএসসি + আরসিসি আর্চ) গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ কাজ চলছে।যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৭২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। নির্মাণাধীন ব্রীজের কাজ ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে।
ঘুর্ণিঝড় আম্ফান এবং বন্যার ক্ষতি গ্রামীণ অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সালুটিকর-গোয়াইনঘাট জিসি সড়কে দুই ভাগে ১০ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই কাজের এক ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।ওই কাজের উপর ভাগ ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ শেষে হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সিলেট শহরে যাতায়াতের প্রধান এই সড়কটি অত্যান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আরসিসি ঢালাই কাজের ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি অনেকটা কমেছে।
গ্রামীন সড়ক, সেতু ও কালভার্ট রক্ষনাবেক্ষন কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় খাইরাই-উপরগ্রাম হাদারপার বাজার জিসি সড়কে ৬ কিলোমিটার কার্পেটিং কাজ শেষ পর্যায়ে যার ব্যয় ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন অবহেলিত ভাঙাচোরা সড়ক দ্রুত গতিতে সংস্কার হওয়ায় মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরছে।
উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নে আমার গ্রাম আমার শহর প্রকল্পের আওতায় বিছনাকান্দি বিওপি থেকে বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট রাস্তায় ৭৭০ মিটার ইউনি ব্লক দ্বারা উন্নয়নে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ কাজের ব্যয় হয়েছে ৯১ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। বগাইয়া মেইন রোড হতে বগাইয়া দক্ষিণ পাড়া রাস্তায় ৯৫০ মিটার ইউনি ব্লক উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে এবং ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। বগাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লিডার বস্তি পর্যন্ত ১৩২০ মিটারের উন্নয়ন কাজ ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ কাজের জন্য ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮৩ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। কৃষি ও পণ্য পরিবহনের জন্য এসব সড়ক অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় কাদা মুক্ত করে ব্লকইটের সড়ক করে দেওয়ায় কৃষক ও যাতায়াতে ভোগান্তি কমেছে। দেশের অন্যতম বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট এলাকায় এসব সড়কে উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও সুদৃঢ় করেছে।
একই প্রকল্পের আওতায় ভোলাগঞ্জ আরএইচডি দয়ার বাজার ভাটরাই - হাদারপার দমদমীয়া রাস্তায় ৬ হাজার ৬৫০ মিটার আরসিসি ঢালাই ও সড়কে ৭ টি কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলছে।ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের কাজ ৫৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।ওই কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি ৬৫ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই সড়কের উন্নয়নে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জ দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন মানবকন্ঠ কে বলেন,আগে এসব সড়কে চলাচল করতে খুব কষ্ট হতো। ভাঙ্গা আর গর্তে কাদায় চলাচলে দায় হয়ে পড়েছিল।এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় বাজারে মালামাল আনা - নেওয়া অনেক সহজ হয়েছে। তবে আনফরের ভাঙ্গা ব্রিজের কাজ দ্রুত এগুচ্ছে। এই ব্রীজের কাজ শেষ হয়ে গেলে যাতায়াতে আমাদের সময় ও খরচ দুটোই একেবারেই কমে যাবে।
দমদমীয়া সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা সফিক মিয়া মানবকন্ঠকে বলেন, আমরা সীমান্তবর্তী মানুষ কখনো কল্পনা কারিনি যে পাকা রাস্তা পাব।সারা জীবন কাচা রাস্তায় কাঁদা দিয়ে চলাচল করতে হতো। স্কুলে বাচ্চাদের যেতে খুব কষ্ট হতো।বর্ষার আগেই সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদায় চলা যেত না। এখন সীমান্তবর্তী এলাকায় দমদমীয়া দিয়ে গোয়াইনঘাট - কোম্পানিগঞ্জ দুই উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা পাকা হওয়ায় আমাদের ভোগান্তি কমেছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হাসিব আহামেদ মানবকন্ঠকে বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলা একটি বৃহত্তম ও পর্যটন ক্ষেত উপজেলা। এই উপজেলায় মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি প্রকল্প নিয়মিত তদারকি করে দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। কাজগুলো শেষ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। পর্যটন স্পষ্টে পর্যটক বৃদ্ধি এবং সীমান্তবর্তী জনপদের ও দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।




Comments