Image description

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় একটি মন্দিরের সরঞ্জমাধি সংরক্ষণের ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত মো. বোরহান উদ্দিন সোহাগকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি মন্দিরে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল (বুধবার) ভোর আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে মাধবপুর থানাধীন আফজলপুর গ্রামের ‘শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরের’ পূজার সামগ্রী সংরক্ষণের একটি টিনশেড ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতকারীরা। এতে মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর পরই হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে জড়িতদের শনাক্ত করতে মাঠে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) মাধবপুর থানার ৩নং বহরা ইউনিয়নের মনতলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ আফজলপুর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীন ওরফে তালেবরের ছেলে।

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বোরহান উদ্দিন সোহাগ মন্দিরে অগ্নিসংযোগের সাথে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। 

তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সাহস পাবে না।