নারায়ণগঞ্জের বন্দরে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে একদল দুর্বৃত্ত। এসময় পুলিশের একটি সরকারি শটগান ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১ মে) ভোরে বন্দর উপজেলার চৌধুরী বাড়ি এলাকার হাবিব নগর থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
আহতরা হলেন— মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল ফয়সালের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এএসআই সোহেল রানাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাতে বন্দরে একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। মদনগঞ্জ ফাঁড়ির এএসআই সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সালসহ পুলিশের একটি দল হাবিব নগর রোডের জনৈক গুলু মিয়ার বাড়িতে তদন্তে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে ওতপেতে থাকা ১৪-১৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং তার কাছে থাকা সরকারি শটগানটি ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে এএসআই সোহেল রানাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে রাতেই বন্দর থানা ও মদনগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ পুরো এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। শুক্রবার ভোরে চৌধুরী বাড়ি এলাকার একটি টিনশেড ঘরের পেছন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিনতাই হওয়া শটগানটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "ছিনতাই হওয়া সরকারি অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments