টানা ছয় দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। মেরামত কাজ শেষে শুক্রবার (১ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরেছে।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে এই ইউনিট থেকে প্রায় ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। এর আগে গত ২২ এপ্রিল (বুধবার) রাত ১০টার দিকে প্রথম ইউনিটের চারটি কোল মিলের (কয়লা চূর্ণ করার যন্ত্র) মধ্যে দুটি ভেঙে গেলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) রাত ৮টার দিকে উৎপাদন শুরু হলেও মাত্র ১৫ ঘণ্টার মাথায় আবারও বিপর্যয় ঘটে। ২৫ এপ্রিল বয়লারের পাইপ ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ছয় দিন মেরামতের পর আজ ভোরে এটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল (বুধবার) দিবাগত রাত ১০টা ২ মিনিটে এই ইউনিটের ৪টি কোল মিলের মধ্যে ২টি কোলমিল ভেঙে যায়। এতে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে মেরামত কাজ সম্পন্ন করে ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) রাত ৮ টা ৭ মিনিটের দিকে কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হয়। উৎপাদন শুরুর পর ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছিল। চালু হওয়ার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যে আবারও বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রটির উৎপাদন।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ ছিল। চালু থাকা একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট। আর তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রথম ইউনিটের ওপর নির্ভর করেই এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, বয়লারের পাইপ ফেটে যাওয়ায় গত ২৫ এপ্রিল ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মেরামত কাজ শেষে শুক্রবার ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। বর্তমানে প্রথম ইউনিটটি থেকে প্রায় ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ৩ নম্বর ইউনিটের ওভারহোলিং কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আশা প্রকাশ করেছে চলতি মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে চালু হবে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে। আর দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করতে চীনা কোম্পানির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আলোচনা চলছে। এই ইউনিট চালু করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
_____
এআর/এমকে




Comments