মাদারীপুরের শিবচর পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং একের পর এক খাল ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এই সমস্যা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন ১২টি ওয়ার্ডের প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভায় গত কয়েক বছরে দ্রুত আবাসিক ভবন, বিপণিবিতান ও সড়ক নির্মিত হলেও পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পিত কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। উল্টো প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত ছোট-বড় খালগুলো দখল ও ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই ডিসি রোড, স্বাস্থ্য কলোনি, যাদুয়ারচর সড়ক, পৌর বাজার, প্রধান সড়ক, কাপুরপট্টি ও মুহুরীপট্টিসহ বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় হাঁটু পানি জমে যায়। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য। বিশেষ করে বাজার এলাকার শত শত দোকানে পানি ঢুকে বেচাকেনায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
পৌর এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন বলেন, “আগে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেত। এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকে। এতে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে।” অপর এক বাসিন্দা মজিবর রহমান জানান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুই-তিন দিন পর্যন্ত বাড়ির সামনে পানি জমে থাকে। এমনকি মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেও মানুষকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এ বিষয়ে শিবচর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইখা সুলতানা বলেন, “পৌর এলাকার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments