Image description

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল জামালগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি বদলে দিচ্ছে শিক্ষার চিরচেনা চিত্র। এই কর্মসূচির প্রভাবে হাওরের শিশুদের মাঝে যেমন পুষ্টিহীনতা কমছে, তেমনি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বেড়েছে অভাবনীয় হারে। ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এই উদ্যোগ এখন এলাকায় মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য এই কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ১৪ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত এই পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসে শিক্ষার্থীদের জন্য বৈচিত্র্যময় খাবারের তালিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বনরুটি, সেদ্ধ ডিম, ফোর্টিফাইড বিস্কুট, ইউএইচটি দুধ ও মৌসুমি কলা।

উপজেলার জামালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালিন জানায়, আগে অনেক সময় সকালে না খেয়েই স্কুলে আসতে হতো। দুপুরে ক্ষিদে লাগলে পড়াশোনায় মন বসতো না। এখন স্কুলে নিয়মিত দুধ, ডিম ও রুটি পাওয়ায় ক্ষুধা মেটে এবং পড়াশোনায় দারুণ মনোযোগ আসে। এতে তার বাবারও মাসে অন্তত ৩০০ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

অভিভাবক আব্দুস সালাম বলেন, "আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে বাচ্চাদের প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব হয় না। স্কুলে এই ব্যবস্থা করায় আমরা এখন নিশ্চিন্ত। বাচ্চারাও আগ্রহ নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে।"

দক্ষিণ কামলাবাজ সাফিজ উদ্দিন সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন জানান, আগে টিফিনের পর অনেক শিক্ষার্থী খাবারের জন্য বাড়ি গিয়ে আর ফিরে আসতো না। এখন পুষ্টিকর টিফিন স্কুলেই পাওয়ায় উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমনকি বৈশাখ মাসেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রায় ৯৫ শতাংশের ওপরে থাকে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পীযূষ কান্তি মজুমদার বলেন, "জামালগঞ্জের সবকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায়। এতে হাওরাঞ্চলের শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নয়ন ঘটছে। বর্তমানে উপস্থিতির হার ৯০ শতাংশের ওপরে এবং ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সম্ভাবনা রয়েছে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর