স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল নাজমুল ও রাশেদুলের। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শৈশবেই তাদের কাঁধে চেপেছে সংসারের গুরুভার। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা ছেড়ে দুই কিশোর ভাই এখন দর্জি শ্রমিকের কাজ করে কোনোমতে পরিবারের হাল ধরেছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের সবেদের মোড় এলাকায় মৃত দর্জি মোজাম্মেল হকের পরিবারে এখন চলছে চরম দুর্দিন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে মোজাম্মেল হক স্ট্রোক করে মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী নাজমা বেগম সংসারের দায়িত্ব নেন। কিন্তু ২০১৯ সালে নাজমা বেগমও স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে। প্রায়ই না খেয়ে দিন কাটতে থাকে তাদের।
অভাবের তাড়নায় ২০১৯ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাজমুল হাসান (১৫) এবং তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া রাশেদুল ইসলাম (১৩) পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। উন্নত জীবনের আশায় নয়, বরং পরিবারের মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দিতে তারা পাড়ি জমায় ঢাকায়। সেখানে দর্জির কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলছে মা ও দাদির চিকিৎসা ও সংসার খরচ। এদিকে, ২০২৩ সালে তাদের দাদি ময়জন বেওয়া এবং ৪ মাস আগে মা নাজমা বেগম আবারও স্ট্রোক করে পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে পড়েছেন। ঘরে অসুস্থ মা ও দাদির সেবা করতে গিয়ে সপ্তম শ্রেণিতেই পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে বড় বোন আরবী আক্তারের।
নাজমুল ও রাশেদুল জানায়, "বাবার মৃত্যুর পর মা অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাদের আর উপায় ছিল না। ছোট বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নামতে হয়েছে। এখন যা আয় করি তা দিয়ে ঠিকমতো ওষুধ আর খাবার জোটে না।"
শয্যাশায়ী মা নাজমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি আজ অচল। আল্লাহ ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নেই। অভাবের জন্য আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে।"
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে এই পরিবারটির সার্বিক সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments