Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় ফুলজোড় নদীতে জমে থাকা বিশাল কচুরিপানার স্তূপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী পরিবেশ। নদীর মাঝখানে জমাটবদ্ধ কচুরিপানার ওপর গড়ে উঠেছে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান, যা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা বকুলতলা এলাকায় এসে আটকে পড়ে। এই কচুরিপানাগুলো এতই ঘন ও শক্ত হয়ে জমাট বেঁধেছে যে, তার ওপর অনায়াসেই মানুষ চলাচল করতে পারছে। এই সুযোগে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী সেখানে অস্থায়ীভাবে চা, চানাচুর, ফুচকা ও বিভিন্ন খাবারের দোকান বসিয়েছেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল হলেই সেখানে উৎসুক মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। শিশু-কিশোররা কচুরিপানার ওপর দৌড়াদৌড়ি ও খেলাধুলায় মেতে উঠছে। অনেকে সপরিবারে ঘুরতে আসছেন। কেউ হাঁটাহাঁটি করছেন, আবার কেউ এই বিরল দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম দুলু বলেন, “নদীর ওপর এমন কচুরিপানার স্তূপ আগে কখনো দেখা যায়নি। এটি দেখতে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ আসছে।”

তবে এই আয়োজন নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অনেকে। ছাত্রনেতা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “একদিকে এটি বিনোদনের জায়গা হয়ে উঠলেও অন্য দিকে নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এত মানুষের সমাগমে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” স্বেচ্ছাসেবী আল আমিন জানান, কচুরিপানার স্তূপের ওপর অতিরিক্ত মানুষের চলাফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই সবার সতর্ক থাকা উচিত।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন ও সিয়াম দাবি করেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা করতে দ্রুত এই কচুরিপানা অপসারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা খোঁজ নিচ্ছি। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর