Image description

কুষ্টিয়ার খোকসায় গড়াই নদীর তীর রক্ষায় নবনির্মিত সরকারি বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। নদী শাসনের জন্য ব্যবহৃত জিও-ব্যাগ কেটে এবং বাঁধের ঢাল (স্লোপ) নষ্ট করে রাস্তা তৈরি করে বালু সরানোর ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রতিরক্ষা বাঁধ এখন হুমকির মুখে। এতে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, বাজার ও শত শত বসতবাড়ি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) নথি সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া ওঅ্যান্ডএম বিভাগের অধীনে ‘গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় (প্যাকেজ নং: GRDP_W4 Lot-2) ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গণেশপুর এলাকায় প্রায় ১.৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। গত ৩ মে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, একদল অসাধু ব্যক্তি বাঁধের অ্যাপ্রন অংশ থেকে বালু উত্তোলনের উদ্দেশ্যে ডাম্পিং করা জিও-ব্যাগ কেটে ফেলেছে এবং বাঁধের ঢাল নষ্ট করে বালু পরিবহনের রাস্তা তৈরি করেছে, যা সরকারি সম্পত্তির মারাত্মক ক্ষতিসাধন।

স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড চারজনকে এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অভিযুক্তরা হলেন—গণেশপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম (৪০), রাজাপুর গ্রামের মো. আনোয়ার আলীর ছেলে মো. জুয়েল আহমেদ (৪২), আজইল গ্রামের মৃত নসকারের ছেলে মো. জহির উদ্দিন (৫০) ও একই গ্রামের মো. আনসারের ছেলে মো. ইব্রাহিম হোসেন (৩৫)।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্ষা মৌসুম শুরু হতে চলায় বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নদীর পাড় ভেঙে নিকটবর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ ও হাট-বাজারসহ বিপুল সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনায় খোকসা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শামসুর রহমান। চিঠিতে তিনি সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুল রহমান বলেন, "সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নদী ভাঙন রোধে কাজ করছে। কিন্তু ব্যক্তিগত স্বার্থে বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন করা হলে পুরো প্রকল্পটি ব্যর্থ হবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি।"

খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর