বিজয়নগরে ৯৯৯-এ কলে ব্যবসায়ী উদ্ধার, অপহরণকারী দুই ভাই গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দিয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় অপহৃত ব্যবসায়ী রূপক রায়কে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অপহরণকারী দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপহৃত রূপকের বাবা গোপাল রায় বাদী হয়ে বিজয়নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপজেলার আলাদাদপুর গ্রামের লুৎফুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪০) ও তাঁর ভাই শাহনূর রহমান। বর্তমানে তাঁরা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে মামলা রয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে আলাদাদপুর গ্রামের সাহাপাড়া থেকে ব্যবসায়ী রূপক রায় আমতলী বাজারে তাঁর নিজ প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথে আনোয়ার হোসেন বিকাশ করার কথা বলে কৌশলে তাঁকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। ঘরে ঢোকামাত্রই রূপককে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কয়েকটি খালি স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে রূপকের মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের কাছে মেসেজ পাঠানো হয় যে, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আছেন এবং তাঁর ফোন হারিয়ে গেছে।
দুপুরের দিকে রূপককে আটকে রাখার বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁর পরিবার ‘৯৯৯’-এ কল দিয়ে পুলিশের সাহায্য চায়। পুলিশ ও গ্রামবাসী দ্রুত ওই বাড়িতে হানা দিয়ে রূপককে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারী দুই ভাইকে আটক করে। গুরুতর আহত অবস্থায় রূপককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত রূপক রায় জানান, “আমাকে ঘরে আটকে রেখে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। রাজি না হওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার শরীরে জখম করা হয়েছে এবং বেধড়ক পেটানো হয়েছে। পুলিশে খবর দিলে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়।”
রূপকের বাবা গোপাল রায় বলেন, “পুলিশ ও এলাকাবাসী সময়মতো না পৌঁছালে হয়তো ছেলেকে আর জীবিত পেতাম না। আমি এই চক্রের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” এদিকে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও আসামিরা জেল থেকে বেরিয়ে পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজীব সরকার সোমবার জানান, “এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments