Image description

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক থেকে উদ্ধার হওয়া ও-লেভেলের শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন আরাফাত (১৭) হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সোনারগাঁয়ের মো. আজিম হোসেন (২৭), সিদ্ধিরগঞ্জের ফয়সাল (২৭) ও রূপগঞ্জের নুসরাত জাহান মিম (২৪)। রোববার (১০ মে) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ এসব তথ্য জানান।

পিবিআই জানায়, গত বছরের ১১ আগস্ট মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ইয়াসিন আরাফাত। দুই দিন পর সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা আফরিনা নাসরিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন, যার তদন্তভার পরবর্তীতে পিবিআই গ্রহণ করে।

তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার আজিম হোসেনের সঙ্গে নুসরাত জাহান মিমের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হলেও দাম্পত্য কলহের কারণে তারা আলাদা থাকতেন। একপর্যায়ে মিমের মেসেঞ্জারে ইয়াসিন আরাফাতের নাম দেখে তাকে স্ত্রীর প্রেমিক সন্দেহ করেন আজিম। পরে তিনি জানতে পারেন ইয়াসিন আসলে মিমের ফুফাতো ভাই। তবে সন্দেহ দূর না হওয়ায় বন্ধু ফয়সালকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন আজিম।

হত্যাকাণ্ডের দিন ইয়াসিনকে কৌশলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সিদ্ধিরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ডিএনডি লেকপাড় এলাকায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে মরদেহ লেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানায় পিবিআই।

সংস্থাটি আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর আজিম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য দুই আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর