Image description

দখল, দূষণ ও খনন সংকটে গাইবান্ধার একসময়ের প্রমত্তা আলাই নদী এখন মৃতপ্রায়। নাব্য হারিয়ে নদীটি পরিণত হয়েছে মরা খালে। প্রবাহ না থাকায় এবং পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর বুকেই এখন চলছে ফসলের আবাদ। অন্যদিকে, নদীর পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা এবং ফেলা হচ্ছে শহরের বর্জ্য। এতে নদীপারের কৃষিজমিতে সেচ ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলা শহরের উপকণ্ঠে ঘাঘট নদ থেকে আলাই নদীর উৎপত্তি। ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটি শহরের পুলবন্দী হয়ে সদর উপজেলার বাদিয়াখালী, সাঘাটার ভূতমারা হয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী নদীতে মিশেছে। একসময় বছরজুড়েই এই নদীতে পানি থাকত, যা দিয়ে তীরবর্তী তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমিতে সেচ দেওয়া হতো।

রোববার (১০ মে) সরেজমিনে পুলবন্দী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শহরের ড্রেনের ময়লা ও আবর্জনাযুক্ত পানি সরাসরি নদীতে পড়ছে। বর্জ্যের কারণে নদীর পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা সেখানে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছেন।

স্থানীয় কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, "নদীতে পানি না থাকায় গত ১০-১২ বছর ধরে এখানে ধান আবাদ করছি। নদীটি খনন করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করলে আমরা সেচের সুবিধা পেতাম।" বাদিয়াখালী ইউনিয়নের সদস্য নুর আলম বলেন, নাব্য সংকটে নদীটি অস্তিত্ব হারাচ্ছে। এটি দ্রুত খনন করে নাব্য ফেরানো জরুরি।

গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবীর তনু জানান, নদীশাসন ও সংস্কার না হলে একসময় মানচিত্র থেকে আলাই নদী মুছে যাবে। পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, "আলাই নদী খননের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা ও তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে নদীটি রক্ষায় খননসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর