Image description

সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনার পর ওই এলাকায় গড়ে ওঠা সব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

রোববার (১০ মে) বিকেল ৫টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সৈকত সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৩২টি অবৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুলিয়াখালী সৈকতে দোলনায় বসাকে কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে আসা পর্যটকদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পর্যটকদের ওপর হামলা চালায়, এতে অন্তত ১২ জন পর্যটক আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

রোববার সকালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে অবৈধ দোকানগুলো সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হয়। এরপর বিকেলে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম ও ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, "গুলিয়াখালী সৈকত একটি সরকারি সম্পত্তি। এখানে দীর্ঘদিন ধরে একদল লোক অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা করছিল। সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। পর্যটন এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।"

পর্যটকদের ওপর হামলার বিষয়ে ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত কালাম ও সুমন নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর