Image description

যশোরের শার্শা উপজেলায় পরকীয়া প্রেমের জেরে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ গোয়াল ঘরের মেঝেতে পুঁতে সিমেন্ট ঢালাই করে দেওয়ার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৩৫ দিন পর শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার বসতপুর গ্রাম থেকে ইকরামুল কবির (২৫) নামে ওই যুবকের অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রেমিকা ও তার স্বামীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

নিহত ইকরামুল কবির পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে। আটককৃতরা হলেন— মুনী বেগম (২০), কাকলী বেগম (১৯), ফজলু মোড়ল (৫৫) এবং ফরহাদ হোসেন (২৮)। রোববার (১০ মে) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নীর সঙ্গে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। গত এক মাস পাঁচদিন আগে ইকরামুল তার প্রেমিকা মুন্নীর কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ জানানো হয়।

পুলিশের তদন্তে একপর্যায়ে সন্দেহের তির যায় মুন্নী ও তার স্বামী আল ফুয়াদের দিকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরে অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাদের বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খনন শুরু করে। মাটি সরিয়ে সিমেন্টের ঢালাই ভাঙতেই বেরিয়ে আসে নিখোঁজ কবিরের অর্ধগলিত দেহ।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পরকীয়া ও পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের চিহ্ন লুকাতেই মরদেহটি গোয়ালঘরের মেঝেতে পুঁতে ওপরে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে কেউ টের না পায়।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই