Image description

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, তার বক্তব্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আপত্তিকর ও অপমানজনক। পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও মসজিদে হামলার অভিযোগ তুলে তিনি শুভেন্দুর আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি জানান।

রোববার (১০ মে) রাতে চট্টগ্রাম মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত “গণভোটের রায় জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্নেল অলি বলেন, "শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে যে বক্তব্যগুলো দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আপত্তিকর ও অপমানজনক। বাংলাদেশে অতীতে অনেক ধর্মীয় দাঙ্গা হলেও বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মতো পরিস্থিতি নয়। সেখানে [পশ্চিমবঙ্গে] মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, দোকানপাট লুটপাট করা হচ্ছে, এমনকি মসজিদেও হামলা চালানো হচ্ছে।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, "গত কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হয়েছে। সেখানেও বাংলাদেশ থেকে দীক্ষিত হয়ে, হাসিনার পরামর্শ মতে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে।" 

সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং এর প্রতিক্রিয়ায় এমন দাবি তুললেন কর্নেল অলি।

সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, গত কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হয়েছে। সেখানেও বাংলাদেশ থেকে দীক্ষিত হয়ে, হাসিনার পরামর্শ মতে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে।

স্বৈরাচারের দোসররা সুকৌশলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চারপাশে স্থান করে নিয়েছে উল্লেখ করে অলি বলেন, আপনি এসব বেষ্টনী থেকে বের হয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতি ফিরে আসেন। বেগম জিয়া ও জিয়াউর রহমানের মর্যাদা রক্ষা করুন। ইচ্ছা করলেই ক্ষমতায় থাকা যায় না। ক্ষমতায় থাকতে হলে নীতি-নৈতিকতা ও জনগণের সমর্থন প্রয়োজন হয়। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আপনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।

তিনি দেশের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতীর কথা উল্লেখ করে অলি বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজন সবসময় তোষামোদ করে এবং ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

ড. অলি আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে তাদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদের মতো গুণী মানুষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়া জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। দেশের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্যও তিনি বর্তমান সরকারকে দায়ী করেন।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপ-প্রধান সরোয়ার তুষার।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এমপি, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।