দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মরিচা ইউনিয়নে নদী পারাপারের একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক গ্রামের মানুষ। সাঁকোটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত থমকে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের আরাজি নাগরী-সাগরী ও মাহাতাপুর এলাকার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল এই বাঁশের সাঁকো। সম্প্রতি টানা বর্ষণ ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল স্রোতের আঘাতে সাঁকোটি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ফলে নদী পার হতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কয়েকশ শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে মাহাতাপুর ও আরাজি এলাকার শিক্ষার্থীরা কাটগর দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে এখন কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিচ্ছে। অনেকে আবার সময় বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হওয়ার চেষ্টা করছে।
অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা জানিয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এভাবে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
শুধু শিক্ষা নয়, কৃষি ও চিকিৎসাক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে এখন পরিবহন ব্যয় ও সময়—উভয়ই দ্বিগুণ লাগছে। অন্যদিকে, রাতের বেলা কোনো অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো জরুরি কোনো পথ খোলা নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দাবির পরও সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়নি।
কাটগর দাখিল মাদ্রাসার এক শিক্ষক জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা না গেলে এলাকায় শিক্ষার হার ও আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ হুমায়ুন কবীর জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। দ্রুত এলাকাটি পরিদর্শন করে যাতায়াত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।
বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুন বলেন, “জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, বারবার শুধু আশ্বাস নয়, এবার যেন একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার এই চিরস্থায়ী দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হয়।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments