Image description

নীলফামারীর সৈয়দপুর থানায় আটক হয়েছেন সৈয়দপুর পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচবারের নির্বাচিত সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর কাজী জাহানারা। আটকের পর পুলিশ ভ্যানে ওঠার সময় তিনি ‘জয় বাংলা’, 'একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার' স্লোগান দেন। 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সৈয়দপুর থানায় ওই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, একটি সালিশ বৈঠকে অংশ নিতে কাজী জাহানারা সৈয়দপুর থানায় যান। এসময় সেখানে উপস্থিত মহিলা দলের নেত্রী রুপাসহ কয়েকজন নেত্রীর সঙ্গে তার বাকবিতন্ডা শুরু হয়। পরে তিনি থানা থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কিছুক্ষণ পর থানার ভেতরেই তাকে আটক করে পুলিশ।

আটকের পর থানার সামনে উপস্থিত মহিলা দলের নেত্রীদের সঙ্গে ফের তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। পরে পুলিশ তাকে নীলফামারী সদর থানার রামগঞ্জ এলাকার সিদ্দিক হত্যা মামলায় আটক দেখিয়ে নীলফামারীতে নেওয়ার প্রস্তুতি নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ গাড়িতে তোলার সময় কাজী জাহানারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার। এ ঘটনায় থানায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থকদেরও থানার সামনে ভিড় করতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে বুধবার (১৩ মে) সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা জানান, নীলফামারীর একটি মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে নীলফামারী সদর থানায় পাঠানো হয়েছে।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী কাজী জাহানারাকে সদর থানার রামগঞ্জের সিদ্দিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে প্রেরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, কাজী জাহানারা সৈয়দপুর পৌর এলাকায় একজন প্রভাবশালী নেত্রী হিসেবে পরিচিত। তিনি ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে টানা পাঁচবার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, গত ১১ এপ্রিল তার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মৃত্যুর এক মাসের মাথায় এই রাজনৈতিক নেত্রী গ্রেফতার হলেন।