৮ মাস ধরে স্কুলে আসেন না শিক্ষক, হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুল হক প্রায় ৮ মাস ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। তবে এ সময়েও বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর রয়েছে তার নামে। এমনকি ক্লাস রুটিনেও তাকে নিয়মিত পাঠদানকারী শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতাও উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রহবল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাস যাবৎ বিদ্যালয়ে আসেন না ওই শিক্ষক। অথচ হাজিরা খাতায় প্রায় প্রতিদিনই তার স্বাক্ষর রয়েছে। স্কুলে না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর কিভাবে হলো- রহস্যজনক বলতে পারেন না কেউ।
বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন, "আরিফুল স্যার আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ক্লাস নিতেন। অনেকদিন ধরে তিনি স্কুলে আসেন না। ফলে বেশিরভাগ সময় এই ক্লাসটা ফাঁকা যাচ্ছে।"
ষষ্ঠ শ্রেণীর একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, "আমরা এ বছর স্কুলে নতুন ভর্তি হয়েছি। এখন পর্যন্ত আরিফুল স্যারকে দেখিনি।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, "আরিফুল স্যার আগে থেকেই প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে সুবিধা নিত। প্রায় দিনই স্কুল থেকে বেরিয়ে যেত। শেষের ঘণ্টায় মন চায় স্কুলে আসে, নাহয় না আসে। আর প্রায় ৮ মাস ধরে স্কুলে আসেনা। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে হাজিরা খাতায় ঠিকই নিয়মিত স্বাক্ষর হয়।"
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, "সরকার শিক্ষকদের বেতন দেয় শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য। কিন্তু শিক্ষক যদি স্কুলেই না আসেন, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরাই। এছাড়া মাসের পর মাস স্কুলে না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, এটা কিভাবে সম্ভব?"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাইরে থাকায় কথা হয় সহকারী প্রধান শিক্ষক সৈয়দা মারুফা আক্তারের সঙ্গে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি শুরুতে বলেন, "আরিফুল স্যার আগে নিয়মিত আসতেন। ইদানীং মাঝে মাঝে আসেন। এখন আবার এসএসসি পরীক্ষার ডিউটিও চলছে। সম্ভবত পরীক্ষার ডিউটিতেও থাকতে পারেন।"
তবে শিক্ষার্থীরা কয়েক মাস ধরে ওই শিক্ষককে বিদ্যালয়ে দেখেনি - এমন তথ্য জানানো হলে তিনি বলেন, "ওরা তো ছোট মানুষ। আমরা যেভাবে মাসের হিসাব করতে পারব, ওরা তা পারবে না। তাছাড়া আমরা যেমন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে কথা বলতে ভয় পাই, তেমনি ওরাও আপনাদের সামনে কথা গুছিয়ে বলতে পারেনি।"
একপর্যায়ে তার বক্তব্যে অসংগতি দেখা যায়। তিনি একদিকে বলেন, শিক্ষক মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে আসেন, অন্যদিকে হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দায় এড়িয়ে বলেন, "প্রধান শিক্ষক ওনাকে কিভাবে রাখছেন, এটা আমি বলতে পারবো না।"
এবিষয়ে বক্তব্য জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউছুব আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তারিকুল আলম মানবকণ্ঠকে বলেন, "আমি আজকেই প্রথম এই উপজেলায় জইন করলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান মানবকণ্ঠকে বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি এবং প্রধান শিক্ষকও আমাকে অবগত করেনি। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"




Comments