Image description

টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে আসা পানির চাপে নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় কয়েকশ একর জমির পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

গত বুধবার (১৩ মে) রাত থেকে উপজেলার অন্তত তিনটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১নং ভুবনকুড়া ইউনিয়নের মাজড়াকুড়া, কুমারগাতী, মহিষলেটি, আচকীপাড়া, তেলিখালী ও কড়াইতলী; ৫নং গাজিরভিটা ইউনিয়নের বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া ও কাতলমারী এবং ৪নং হালুয়াঘাট সদর ইউনিয়নের গোবরাকুড়া, মনিকুড়া, রাংরাপাড়া ও কালিয়ানীকান্দাসহ আরও কয়েকটি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বুধবার সকালে ভুবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া এলাকায় মেনংছড়া নদী এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় বুড়াঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধ ভাঙা পানি মুহূর্তেই লোকালয় ও ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে। ফলে অনেক কৃষক তাদের কষ্টার্জিত ধান কাটার সুযোগ পর্যন্ত পাননি। দ্রুত পানি না নামলে ধান পচে পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে ঢল অব্যাহত থাকলে দর্শা, গাঙ্গিনা ও কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জুগলী, কৈচাপুর, নড়াইল, শাকুয়াই ও বিলডোরা ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

বুধবার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ। তিনি গাজীরভিটা ও ভূবনকুড়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।

ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, "ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং কিছু কাঁচা রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছি।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর