Image description

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় হানিফ মিয়া (৩২) নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোরে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হানিফ মিয়া ওই এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম (৩৫) অভিযোগ করে বলেন, "গত রাত ১০টার দিকে একই এলাকার আনোয়ার হোসেন আমার স্বামীকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাত ১২টা ৪৭ মিনিটে আমার স্বামীর মোবাইল থেকে একটি কল আসে। আমি ফোন ধরলে তিনি কোনো কথা বলতে পারছিলেন না, শুধু গোঙানির শব্দ আসছিল। আমি শুনতে পাই আমার স্বামী বলছেন— 'জাকির ভাই, আমাকে জীবন ভিক্ষা দাও'। জবাবে একই এলাকার লস্কর আলীর ছেলে জাকির হোসেন (৪০) বলছিল— 'তোর কোন বাপ আছে আজ তোকে বাঁচাতে পারে?'"

নিহতের স্বজনরা জানান, ফোনের ওই কথা শোনার পর তারা বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে জানতে পারেন হানিফকে জাকির হোসেনের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা ওই বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে রাত ৩টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে ভোর ৫টার দিকে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সকালে প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন পলাতক রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, জাকির একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। হানিফ মিয়া তার মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করতেন বলে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের শত্রুতা ছিল।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— লস্কর আলী (৭৫), আয়াত উল্লাহ (৩২), হেলেনা বেগম (৬০), খুকি বেগম (৫০) এবং নাদিয়া আক্তার (২৩)।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর