ঢাকার ধামরাইয়ে ইয়াবা সেবনের টাকা জোগাতে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বাসে বাসে ভিক্ষা করছেন সোহেল নামের এক যুবক। প্রতিদিনের নেশার খরচ মেটাতে অন্য কোনো উপায় না থাকায় তিনি ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিয়েছেন। মাদকাসক্তির কারণে এক যুবকের এমন ধ্বংসাত্মক জীবনযাত্রা এখন স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে ধামরাইয়ের কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সোহেল বিভিন্ন বাসে উঠে যাত্রীদের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলে টাকা চাচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন নিয়মিত ইয়াবা সেবনকারী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি তার এই ভিক্ষা করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
নেশার কথা অকপটে স্বীকার করে সোহেল জানান, তিনি ইয়াবায় মারাত্মকভাবে আসক্ত। প্রতিদিন তার অন্তত দুই থেকে তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট প্রয়োজন হয়। বর্তমানে প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম প্রায় ৩০০ টাকা। ফলে প্রতিদিন নেশার পেছনেই তাকে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ করতে হয়। এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে না পেরে তিনি গত ছয় বছর ধরে বাসে বাসে ভিক্ষা করছেন। তবে কারা তাকে এই মরণনেশা সরবরাহ করে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
কালামপুর এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী ও বাসযাত্রী জানান, সোহেল সুস্থ ও কর্মক্ষম হওয়া সত্ত্বেও নেশার নেশায় বুঁদ হয়ে ভিক্ষা করছেন। প্রথমে অনেকেই তাকে অসহায় ভেবে সাহায্য করলেও, পরে যখন জানতে পারে এই টাকা মাদকের পেছনে ব্যয় হয়, তখন অনেকেই আর টাকা দিতে চান না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদকাসক্তির কারণে সোহেলের স্বাভাবিক জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এমন মাদকাসক্তদের সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে পুনর্বাসন উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। একই সাথে ধামরাই এলাকায় মাদকের সরবরাহকারী ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় আরও অনেক কর্মক্ষম যুবক এভাবেই মাদকের নীল ছোবলে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments