Image description

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন। এসময় তারা হাসপাতালে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া) ডা. রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পশুর চিকিৎসা করা সহজ, কিন্তু শরীয়তপুরবাসীর চিকিৎসা করা তার চেয়েও কঠিন মনে হচ্ছে। একজন চিকিৎসক মানুষের জীবন বাঁচাতে লড়েন, অথচ রোগী মারা গেলেই চিকিৎসকের ওপর হামলা চালানো এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে চিকিৎসাসেবা সচল রাখা সম্ভব নয়।”

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাদের চাকরির চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আমরা কারো মায়ের বুক খালি হতে দিতে চাই না। কিন্তু জীবনের নিরাপত্তা ছাড়া সেবা দেওয়া অসম্ভব। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অচিরেই জরুরি বিভাগ বা বহির্বিভাগে চিকিৎসক খুঁজে পাওয়া যাবে না।”

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত লাল মিয়া কাজী নামে এক রোগীকে সদর হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই রোগীর মৃত্যু হলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে স্বজন ও বহিরাগতরা হাসপাতালে তাণ্ডব চালায়।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা ডা. নাসির ইসলামকে তার কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নৃশংসভাবে মারধর করছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে এবং পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর